Skip to main content
থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের নিয়ম

থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন কিভাবে করবেন (নিজে নিজে A to Z)

Last updated on June 10th, 2022 at 04:40 am

আজকের এই পোস্টে আপনি জানবেন থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের A to Z। ভ্রমণের জন্য ইন্ডিয়ার পর আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ থাইল্যান্ড। আমি করোনার আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে থাইল্যান্ডে ১০ দিনের সলো ট্যুর দিয়েছিলাম। আমার সব ট্যুর শুরু হয় ট্যুরের প্লান করা থেকেই। সে হিসেবে ভিসা করাটাও আমার জন্য একটা চমৎকার অভিজ্ঞতা সব সময়। আর আমার থাইল্যান্ডের টুরিস্ট ভিসা আমি নিজেই করেছিলাম। এছাড়া এর আগের বছর আমার মেজ ভাই দুইবার ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ভিসা আবেদন করে VL খেয়েছিল, মানে ভিসা পায়নি। পরের বার আমি সব রেডি করে দিলে ভিসা পেয়েছিল। তাই আমি মনে করি থাইল্যান্ড ভিসা নিয়ে লিখার অথোরিটি আমার আছে। তাই এবার আমি আপনাদের সুবিধার্থে লিখছি থাইল্যান্ড ভিসা প্রসেসিং এর বিস্তারিত যার মাঝে থাকবে কাগজপত্র, খরচ, ভিসা ফি, আবেদন জমা দেয়া থেকে শুরু করে সব কিছু। তাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন পুরো পোস্টটি।

লেখাটি বড় বিধায় পছন্দমত অংশে দ্রুত নেভিগেট করতে এই  ‘Quick Navigation’ মেনুটি ব্যবহার করতে পারেন। ‘Quick Navigation’ এর পাশের [show] তে ক্লিক করলেই সম্পুর্ন মেনু দেখতে পারবেন।

Quick Navigation

থাইল্যান্ড ভিসা

থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা বা থাইল্যান্ড ভ্রমণ ভিসা সাধারনত সিঙ্গেল এন্ট্রি ৩ মাসের ও মাল্টিপল এন্ট্রি ৬ মাসের মেয়াদের হয়। উভয় ভিসাতেই প্রতি এন্ট্রিতে থাইল্যান্ডে আপনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাকতে পারবেন। আগে ডাবল এন্ট্রি ৬ মাসের ভিসা ছিল, এখন মনে হচ্ছে সেটা নেই। টুরিস্ট ভিসার টাইপ হল “TR”। এছাড়া ট্রানজিট, মেডিকেল, বিজনেস ইত্যাদি ভিসাও আছে।

আমার থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা

০. থাইল্যান্ড ভিসা প্রসেসিং নিজে করবেন না এজেন্সি দিয়ে করাবেন?

থাইল্যান্ড ভিসা প্রসেসিং আপনি নিজে নিজে করতে পারেন অথবা চাইলে এজেন্সি দিয়েও করাতে পারেন। এখন আপনি কিভাবে ডিসিশন নিবেন যে নিজে করবেন না এজেন্সি দিয়ে করাবেন?

০.১ এজেন্সি দিয়ে করানোর কারনসমুহ

প্রথম কথা যদি আপনি এত কিছু ভাল না বুঝে থাকেন তাহলে এজেন্সি দিয়ে করানো ভাল হবে। এছাড়া এজেন্সি ফরম পুরন থেকে শুরু করে ভিসা আবেদন জমা করে আপনার কাছে পাসপোর্ট ফেরত দিবে। এতে আপনার কোন ঝামেলা হবে না। অনেক সময় বাচবে। আর ওরা মূল চার্জের পরে যে ফি নেয় তা অনেক কম। ১ হাজার টাকের চেয়েও কম। কিন্তু সব ঠিক আছে। আপনি যদি চাকুরীজীবী হন বা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হন বা অন্য কোন প্রফেশনে ভাল অবস্থানে থাকনে তাহলে এজেন্সি বেস্ট অপশন হবে আপনার জন্য।

০.২ নিজে নিজে ভিসা করার কারনসমুহ

কিন্তু আপনি যদি আপনার কাগজপত্র নিয়ে কনফিডেন্ট না হন বা আপনার পেশা যদি প্রচলিত ধাঁচের না হয় অথবা আপনি চান আপনার আবেদন ইউনিক হউক তাহলে নিজে করাই ভাল হবে। যেমন আমি একজন ফ্রিল্যান্সার। এখন আমার পেশার কি প্রমাণ বা কাগজ দিব সেটা সম্পর্কে ট্রাভেল এজেন্সির আইডিয়া কম। এছাড়া আমি চেয়েছিলাম আমার ভিসা আবেদন লেটার ও আইটেনারি ইউনিক হউক। এজেন্সি সবার জন্যই প্রায় একই ফরম্যাটে সব জমা দেয়। সেজন্য আমি নিজে করেছিলাম। নিজে করলে যে খরচ সেইভ হয় অনেক সেরকম কিন্তু না।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার যে আপনি থাই ভিসা প্রসেসিং নিজে করবেন নাকি এজেন্সি দিয়ে করাবেন।

* শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো কি কি

প্রথমেই সংক্ষেপে দেখে নিই থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের ধাপগুলো কি কি। এতে আপনি পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পর্কে একটা ধারনা পাবেন।

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ করা
  • থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন ফর্ম পুরন করা
  • ভিসা আবেদন জমা দেয়া
  • পাসপোর্ট সংগ্রহ বা ফেরত নেয়া

ধাপগুলো তো জানা হল। এবার চলুন জেনে নেই এগুলোর বিস্তারিত।

১. থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা বা থাইল্যান্ড ভ্রমণ ভিসা আবেদনের প্রথম ধাপ হচ্ছে আবেদন জমা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ করা। তো চলুন দেখে নেই কি কি কাগজপত্র লাগে থাইল্যান্ড ভিসা পেতে।

  • থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের ফরম
  • পাসপোর্ট
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট (মোট ব্যালেন্স উল্লেখ থাকা ভাল তবে আবশ্যক না)
  • পেশার প্রমাণপত্র (ট্রেড লাইসেন্স, NOC, স্টুডেন্ট আইডি ইত্যাদি)
  • ভিসা রিকুয়েস্ট লেটার
  • এয়ার টিকেট বুকিং
  • হোটেল বুকিং
  • ট্রাভেল আইটেনারি বা ভ্রমণ পরিকল্পনা
  • পাসপোর্ট এর ডাটা পেইজের ফটোকপি (ছবির পাতা)
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • সর্বশেষ থাই ভিসা কপি (যদি থাকে)
  • ম্যারেজ সার্টিফিকেট (যদি স্বামী স্ত্রী আবেদন করেন)
  • ১৮ বছরের নিচে হলে অভিভাবকের সম্মতিপত্র

উপরে উল্লিখিত সকল ডোকুমেন্টস ইংরেজিতে হতে হবে। কোনটা যদি বাংলা বা অন্য ভাষায় থাকে তাহলে ইংরেজিতে নোটারি করে নিতে হবে।

২. ভিসা আবেদনের ডকুমেন্টগুলোর বিস্তারিত গাইডলাইন

থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের জন্য যে সব কাগজপত্র পাসপোর্ট ও ফর্মের সাথে দিতে হবে তা উপরে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এখন এখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হল যাতে আপনি বুঝতে পারেন যে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

২.১ থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের ফরম

ভিসা আবেদন করার জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল সঠিকভাবে ও নির্ভুলভাবে ভিসা আবেদন ফরমটি পুরন করা। প্রথমেই এই লিংক থেকে ভিসা আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে নিন। তারপর কোন পিডিএফ রিডার বা এডিটর দিয়ে সঠিকভাবে পূরন করে নিন।

কিভাবে ভিসা ফরমটি পুরন করবেন সেটা আমি একটি ভিডিওর মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করব সময় পেলে।

২.২ পাসপোর্ট

বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে অবশ্যই সবার আগে পাসপোর্ট লাগবে। তাই পাসপোর্ট না আগে থাকলে পাসপোর্ট করে নিন। নিজে নিজে কিভাবে পাসপোর্ট করবেন তা জানতে পড়ুন পাসপোর্ট করার নিয়ম। থাইল্যান্ড ভিসা আবেদনের জন্য পাসপোর্ট সম্পর্কে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো হচ্ছে-

  • পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে
  • পাসপোর্টে কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পাতা থাকতে হবে ভিসা ও ইমিগ্রেশন সিলের জন্য
  • পুরোনো পাসপোর্ট যদি থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই সেইগুলোও নতুন পাসপোর্ট এর সাথে দিতে হবে।

২.৩ ছবি

ভিসা আবেদনের জন্য ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের (৩.৫ সে.মি.* ৪.৫ সে.মি.) ল্যাব প্রিন্ট ছবি লাগবে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড হতে হবে সাদা। আর ছবি গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে।

২.৪ ব্যাংক স্টেটমেন্ট

থাইল্যান্ড ভিসার গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এবং একাউন্টে কারেন্ট ব্যালেন্স কমপক্ষে ২০,০০০ থাই বাথ বা বাংলাদেশি টাকায় ৬০,০০০ টাকা থাকতে হবে। আর ফ্যামিলি হিসেবে আবেদন করলে কমপক্ষে .৪০,০০০ থাই বাথ বা বাংলাদেশি টাকায় ১,২০,০০০ টাকা থাকতে হবে একাউন্টে।

আমার ব্যাংক একাউন্টে মেবি ব্যালেন্স ছিল ১ লাখ+। আসলে এই ব্যালেন্স অনেক বেশি কমে কিছু আসে যায় না। কারো থেকে ধার করে টাকা জমা রেখে ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিলে লাভ হবে না। কারণ সবাই দেখে আপনার একাউন্টে কত টাকা আসে, কখন আসে, কত খরচ হয় এসব। মানে আমার পয়েন্ট হল শুধু কারেন্ট ব্যালেন্সে কিছু আসে যায় না।

২.৫ ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

থাইল্যান্ড ভিসার জন্য শুধু ব্যাংক স্টেটমেন্টেই হবে না সাথে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট/লেটার ও লাগবে। ব্যাংক সলভেন্সীতে কারেন্ট ব্যালেন্স উল্লেখ থাকা ভাল, যদিও এটা বাধ্যতামূলক না।

আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ব্যাংক সলভেন্সি দুটোই অরিজিনাল কপি জমা দিতে হবে।

২.৬ পেশার প্রমাণপত্র

যেকোন দেশের ভিসা আবেদনের জন্য পেশার প্রমাণ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে আমি প্রধান কয়েকটি পেশার মানুষের জন্য কি ডকুমেন্টস দিতে হবে পেশার প্রমাণ হিসেবে তা উল্লেখ করছি।

২.৬.১ ফ্রিল্যান্সার

আমি যেহেতু ফ্রিল্যান্সার তাই ফ্রিল্যান্সারদের টাই আগে বলি। ফ্রিল্যান্সার হলে যে প্লাটফর্মে কাজ করেন সেখান থেকে কিছু দিতে পারেন প্রমাণ হিসেবে। যেমন ধরুন প্রোফাইলের প্রিন্ট, আর্নিং হিস্টোরি। আর যারা Upwork এর কাজ করেন তারা ‘Certificate of Earnings’ দিতে পারেন। যেকোন দেশের ভিসা আবেদনে ইহা ওষুধের মত কাজ করে। 😀

এছাড়া আপনি রিমোট জব করলে তার কন্ট্রাক্ট, এপয়েনমেন্ট লেটারও দিতে পারেন।

আমি দিয়েছিলাম Upwork এর প্রোফাইলের স্ক্রিনশট। আর সাথে দিয়েছিলাম গত অর্থবছরের রেমিটেন্স সার্টিফিকেট

২.৬.২ ছাত্র/স্টুডেন্ট

ছাত্র হলে সাধারণত স্টুডেন্ট আইডির কপি দিলেই হয়। তবে আমি করোনার সময় দেখেছিলাম ওরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফোন করে কনফার্ম হতে। ওদের ভাষায় a recommendation letter from the school/university or student card/evidence of school/university enrolment.

২.৬.৩ চাকুরিজীবি

আপনি চাকুরিজীবী হলে আপনাকে NOC বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিতে হবে। NOC অবশ্যই আপনার কোম্পানির অফিসিয়াল প্যাডে হতে হবে। এখানে আপনার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখ থাকতে হবে। আর প্যাডে আপনার কোম্পানির যোগাযোগের তথ্য থাকতে হবে কারণ ভিসা অফিসার আপনার অফিসে ফোন দিবে আপনার ব্যাপারে জানতে।

চাকুরীজীবীদের জন্য স্যালারি ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রিফারেবল। এছাড়া চাকুরীজীবীদের পে স্লিপ বা স্যালারি সার্টিফিকেট দিতে হবে। তবে স্যালারি সার্টিফিকেট না থাকলে বেতন সংক্রান্ত তথ্য NOC তে মেনশন করতে হবে।

২.৬.৪ ব্যবসায়ী

আপনি ব্যবসায়ী হলে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্সের কপি দিতে হবে। আর ট্রেড লাইসেন্সে আপনার নাম উল্লেখ থাকতে হবে। আর লিমিটেড কোম্পানি হলে ট্রেড লাইসেন্সের সাথে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলের কপি দিতে হবে। ভিজিটিং কার্ডও দিতে পারেন চাইলে।

২.৬.৫ ডাক্তার/আইনজীবী

ডাক্তার হলে হাসপাতাল থেকে NOC অথবা BMDC সার্টিফিকেট লাগবে। আর আইনজীবী হলে বার কাউন্সিল সনদ বা আপনার ল ফার্মের NOC/letter.

২.৬.৬ অন্যান্য

উপরের কোনটাতেই যদি আপনার পেশা কভার না করে তাহলে আপনার মাথা খাটিয়ে পেশার প্রমাণ দিন। শেষমেশ কিছু না থাকলে সাদা কাগজে আপনার কি করেন, কত আয় করেন বা কিভাবে আপনার ভ্রমণ ব্যয় নির্বাহ করবেন তার বর্ণনা দিন।

২.৭ ভিসা রিকুয়েস্ট লেটার

সকল আবেদনকারীদের ভিসা অফিসারকে এড্রেস করে ভিসা এপ্লিকেশন লেটার দিতে হবে।

আমি আমার ভিসা এপ্লিকেশন লেটারের স্যাম্পল দিব এখানে পরে।

২.৮ এয়ার টিকেট বুকিং

আপনাকে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড-বাংলাদেশ এর এয়ার টিকেটের বুকিং বা কনফার্ম এয়ার টিকেট দিতে হবে। আপনি চাইলে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এ পেমেন্ট না করেই এই বুকিং কপি পেতে পারেন। যেমন ইউএসবাংলা, বিমান ইত্যাদি। এছাড়া অনেক বুকিং প্লাটফর্মও পে না করেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বুকিং দিয়ে থাকে। আর না পারলে শেষ ভরসা হল ট্রাভেল এজেন্ট।

২.৯ হোটেল বুকিং

হোটেল বুকিংও দিতে হবে। ফ্রি হোটেল বুকিং করতে পারেন Agoda বা Booking.com থেকে। এটা মেন্ডেটরি না তবে চায় অনেক সময়। আর আমি রিকমেন্ড করি আপনাদের হোটেল বুকিং দিতে। আমার বেলায় আমি হোটেল বুকিং দেই নি। তবে ট্রাভেল আইটেনারি দিয়েছিলাম।

২.১০ ট্রাভেল আইটেনারি বা ভ্রমণ পরিকল্পনা

এটা হল আপনি থাইল্যান্ডে কতদিন থাকতে চান ও কোথায় কোথায় যেতে চান তার একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এটা আপনি চাইলে নিজে নিজে বানিয়ে দিতে পারেন অথবা অনলাইন থেকে ফরম্যাট খুঁজে দিতে পারেন।

আমি পরে এখানে আমার ১০ দিনের থাইল্যান্ড ট্রাভেল আইটেনারি এর লিংক দিয়ে দিব।

২.১১ অন্যান্য

এছাড়া আবেদনের উপর ভিত্তি করে কিছু কাগজ লাগতে পারেন যেমন।

  • ম্যারেজ সার্টিফিকেট লাগবে যদি স্বামী স্ত্রী একসাথে আবেদন করেন
  • ১৮ বছরের নিচে হলে অভিভাবকের সম্মপতিপত্র

নোটারাইজেশন

উপরে উল্লিখিত সকল ডকুমেন্টস ইংরেজিতে হতে হবে। কোনটা যদি বাংলা বা অন্য ভাষায় থাকে তাহলে ইংরেজিতে নোটারি করে নিতে হবে।

ভিসা আবেদন জমা দেয়া

৩. থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা আবেদন ফরম পুরন করা

সব ডকুমেন্টস জোগাড় হয়ে গেলে এখন আপনাকে থাইল্যান্ড ভিসা ফরম পূরণ করতে হবে। থাইল্যান্ডের ভিসা ফরম খুবই সংক্ষিপ্ত এক পাতার একটি ফরম। তাই খুব সহজেই পূরণ করতে পারবেন। প্রথমে ভিসা ফরমটি ডাউনলোড করে নিন সাইমন গ্লোবাল অথবা ভিএফএস গ্লোবাল এর সাইট থেকে। তারপর ফরম পুরনের নির্দেশনাটি ডাউনলোড করে নিন সাইমন গ্লোবাল অথবা ভিএফএস গ্লোবাল এর সাইট থেকে।

এখন নির্দেশনা দেখে ফরমটি পূরণ করুন। কিছু ফরম পূরণ করার কিছু টিপস..

  • বেসিক তথ্যগুলো পাসপোর্ট দেখে ভালভাবে পূরণ করবেন।
  • Countries for which travel document is valid” এখানে আপনার পাসপোর্ট অনুযায়ী “ALL COUNTRIES EXCEPT ISRAEL” লিখবেন। তবে কিছু নতুন ই পাসপোর্টে আবার লিখা থাকে This passport is valid for all counties of the world. সেক্ষেত্রে তারা চাইলে ALL COUNTRIESOF THE WORLD লিখতে পারেন।
  • Proposed Address in Thailand” এ কোন হোটেল এর তথ্য দিলেই হবে। আপনি হোটেল বুকিং দিলে সেটার তথ্য দিন এখানে।
  • Name and Address of Local Guarantor” এখানে আপনাকে ভালভাবে চিনে ও জানে এমন কারো নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার দিন। অনেক সময় এই লোকাল গ্যারান্টরকে কল করা হয়।
  • Name and Address of Guarantor in Thailand” থাইল্যান্ডে যদি আপনার কেউ থাকে যে আপনাকে ভালভাবে চিনে ও আপনার ভ্রমণ সম্পর্কে জানে তাহলে এখানে তার নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার দিন। তবে আমাদের প্রায় সবারই এমন কেউ নাই থাইল্যান্ডে তাই তারা শুধু ‘N/A’ লিখে দিলেই হবে।
  • Date of Arrival in Thailand, Traveling by, Flight No. or Vessel Name এগুলো আপনার এয়ার টিকেট বুকিং অনুযায়ী দিন।
  • Duration of Proposed Stay তে আপনার কয়দিনে থাকার প্লান সেটা দিন ( এয়ার টিকেট দিলে টিকেটের আসা যাওয়ার দিন হিসেবে দিন)
  • সবশেষে স্বাক্ষর ও তারিখ দিন নির্দিষ্ট ঘরে

এইত, এক পৃষ্ঠার ফরমের এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলেই হবে। তারপরেও আমি এখানে একটি স্যাম্পল ফর্ম দিয়ে দিচ্ছি যেটা দিয়ে ভিসা পাওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ড ভিসা ফরম

৪. থাইল্যান্ড ভিসা ফি/থাইল্যান্ড ভিসা খরচ

থাইল্যান্ড ভিসার প্রকার ও এন্ট্রির উপর ভিত্তি করে থাইল্যান্ড ভিসা ফি বা থাইল্যান্ড ভিসা খরচ কম বেশি হয়। আমি এখানে শুধু বাংলাদেশিদের জন্য জনপ্রিয় থাইল্যান্ড টুরিস্ট ভিসা ও ট্রানজিট ভিসার ফির লিস্ট এখানে দিচ্ছি।

ভিসার ধরনফিএন্ট্রিমেয়াদ
টুরিস্ট ভিসা৩০০০সিঙ্গেল৩ মাস
টুরিস্ট ভিসা১৫০০০মাল্টিপল৬ মাস
ট্রানজিট ভিসা২৪০০সিঙ্গেল৩ মাস
ট্রানজিট ভিসা৪৮০০ডাবল৬ মাস

এই ভিসা ফি বাদেও ভিসা আবেদন গ্রহণকারীদের এদের সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। প্রসেসিং ফি ১২৬০ টাকা। মানে আপনি ৩ মাস মেয়াদী সিঙ্গেল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে খরচ হবে ৩০০০+১২৬০=৪২৬০ টাকা।

৫. থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম

সব ডকুমেন্টস ও ফর্ম রেডী হয়ে গেলে এখন কাজ হল ভিসা ফরম ও কাগজপত্র থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়া। এখন দেশে দুইটি প্রতিষ্ঠান থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন জমা নেয়। একটা হল সাইমন গ্লোবাল ও অপরটি হল ভিএফএস গ্লোবাল। ভিএফএস গ্লোবাল শুধু ঢাকায় জমা নেয় আর সাইমন গ্লোবাল এর ঢাকা ছাড়াও সিলেট ও চট্টগ্রামেও ভিসা আবেদন কেন্দ্র আছে।

আপনি যে কেন্দ্রেই যান সব ডকুমেন্টস নিয়ে সকালে গিয়ে লাইনে দাড়াতে হবে। তারপর কাউন্টার থেকে আপনার সব কাগজ চেকলিস্ট অনুযায়ী সিরিয়াল করে জমা নিবে। সব ঠিক থাকলে জমা নিবে আর কোন কাগজ কম থাকলে বা সমস্যা হলে তারা বলে দিবে।

ভিসা আবেদন কেন্দ্রে গিয়ে আপনাকে থাইল্যান্ড এম্বাসীর নির্ধারিত ভিসা ফি বাদেও এদের সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এই দুই কেন্দ্রেরই প্রসেসিং ফি ১২৬০ টাকা। ভিসা ফি ও এই প্রসেসিং ফি জমা দেয়ার জন্য নির্ধারিত বুথ আছে সেখানেই দিতে হবে। ভাংতি টাকা নিয়ে যাওয়া ভাল।

টুরিস্ট সিজনের উপর ভিত্তি করে ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ভিড়ের তীব্রতা কম বেশি হয়।

৫.১ থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর ঠিকানা ও গুগল ম্যাপ্স লোকেশন

Saimon Center
House# 4A, Road# 22, Gulshan 1, 1 Gulshan Avenue, Dhaka, 1212
গুগল ম্যাপ্স লোকেশন লিংক
ফোনঃ 02222298080
VFS Global
AJ Heights, Road No 88, Progoti Sarani, North Badda, Dhaka 1212
গুগল ম্যাপ্স লোকেশন লিংক
ফোনঃ 09666911385

৬. পাসপোর্ট সংগ্রহ বা ফেরত নেয়া

আবেদন জমা দেয়ার পর সেদিনই যে কেন্দ্রে আবেদন জমা দিয়েছেন সে কেন্দ্র থেকে একটা কল পাবেন যে আপনার আবেদন জমা হয়েছে আর তারা বলে দিবে যে আগামী কয়েকদিনে থাইল্যান্ড এম্বাসী থেকে আবার কল পাবেন। এই কল আপনি নিজে জমা দেন বা কোন এজেন্সি দিয়ে জমা দেন উভয় ক্ষেত্রেই এই কল পাবেন।

এরপর আপনি পরের দিন থেকে পরবর্তী যেকোনো দিন থাইল্যান্ড এম্বাসী থেকে ফোন পাবেন। তারা আপনার পেশা সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করবে। কেন থাইল্যান্ড যাবেন সেটা জানতে চাইবে। এছাড়া আপনি চাকুরিজীবি হলে আপনার অফিসে, ছাত্র হলে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কল করতে পারে। তাই আবেদন জমা দেয়ার পরে কল না পাওয়া পর্যন্ত এলার্ট থাকা উচিৎ।

৬.১ থাইল্যান্ড ভিসা আবেদন ট্র্যাক করা

আবেদন জমা দেয়া থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ফেরত পাওয়া পর্যন্ত আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে আছে তা চেক করতে পারবেন আপনি যে কেন্দ্রে জমা দিয়ে তাদের সাইটে।

  • সাইমন গ্লোবাল এ জমা দিলে এই লিংকে গিয়ে রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে ট্র্যাক করতে পারবেন।
  • ভিএফএস গ্লোবাল এ জমা দিলে এই লিংকে গিয়ে রেফারেন্স নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে চেক করুন।

যখন ডেলিভারির জন্য রেডি দেখবেন অনলাইনে তখন পাসপোর্ট আনতে পারবেন। তো আপনার পাসপোর্ট নিয়ে নিন, আর চেক করে দেখুন ভিসা পেয়েছেন কিনা।

ভিসা পেলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আমার পোস্ট কারো কাজে লেগেছে জানলে ভাল লাগবে আমার। 

৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

থাইল্যান্ড ভিসা খরচ কত?

থাইল্যান্ড ভিসা খরচ সম্পর্কে জানতে উপরের থাইল্যান্ড ভিসা ফি সেকশন দেখুন। ৩ মাস মেয়াদী সিঙ্গেল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসা আবেদন করতে খরচ হবে ৩০০০+১২৬০=৪২৬০ টাকা।

থাইল্যান্ড ভিসা ওপেন ফর বাংলাদেশী?

হ্যা এখন বাংলাদেশীদের জন্য থাইল্যান্ড ভিসা ওপেন।

ভিসা পেতে কত সময় লাগে?

সাধারণত ১ সপ্তাহেই পাসপোর্ট ফেরত দেয়। তবে অনেক সময় সময় নিতে পারে।


আশা করি থাইল্যান্ড ভিসা প্রসেসিং সম্পর্কে আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি। তারপরেও আর কোন প্রশ্ন থাকলে করুন। আমি উত্তর দিব। প্রশ্নের জন্য সাইটের মেইন কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন করলে আমার কাছে ইমেইলে নোটিফিকেশনে আসবে তাই দ্রুত উত্তর দিতে পারব। আর ফেসবুক কমেন্ট করলে আমাকে ম্যানুয়্যালি চেক করতে হয়, তাই একটু দেরি হতে পারে।

আর আপনার কাছে যদি আপডেট তথ্য থাকে  অথবা কোন তথ্য ভুল মনে হয় তাহলে দয়া করে কমেন্ট করে জানান, আমি আপডেট করব। এতে সবারই উপকার হবে। আমি প্রপার ক্রেডিট দেয়ার চেষ্টা করব।

অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য।


নোটিশঃ সম্পূর্ণ লেখা কপি করা নিষেধ। কোথাও কোন বিশেষ অংশ সাহায্যের জন্য দিতে পারেন তবে অবশ্যই ক্রেডিট হিসেবে এই পোস্টের লিংক দিবেন। অনেক সময় দিয়ে আপনাদের সুবিধার্থে এই লেখাটি লিখা হয়েছে, তাই আশা করব কপি পেস্ট থেকে বিরত থেকে লেখকের কষ্টের মূল্য দিবেন।  

Saiful Islam Sohel

আমি সাইফুল ইসলাম সোহেল। ভালো লাগে নিত্য-নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ও অন্যকে জানাতে। লিখতে অনেক ইচ্ছে হয় কিন্তু সময় বের করে লিখতে পারি না। আর কিছু লিখতে পারলে অনেক ভালো লাগে। ২০১৩ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স ইন্টারনেট রিসার্চার ও সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছি আপওয়ার্কে। বর্তমানে বি.এসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মন নেই, পড়তে হচ্ছে বলে পড়ছি। ক্যারিয়ারে নিজের মত করে কিছু করতে মন চায়। ভ্রমনের প্রতি আকর্ষন তীব্র আমার। তবুও দেখা যায় বছর শেষে দু এক জায়গার বেশি যাওয়া হয় না। :-( আরো পড়ুন https://nirbodh.com/about/

কমেন্ট করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.