ডলার এন্ডর্সোমেন্ট

ডলার এন্ডোর্সমেন্ট করার বিস্তারিত নিয়ম

Last updated on October 20th, 2018 at 01:16 pm

আপনি যেহেতু আমার ব্লগের এই পোস্টে এসে পড়েছেন তার মানে আপনি ডলার এনডোর্সমেন্ট সম্পর্কে জানতে চান। ডলার এনডোর্সমেন্ট কি, কেন করতে হয়, কোথা থেকে, কিভাবে করবেন, কি নিয়ম কানুন ইত্যাদি আমি সব এই পোস্টে জানাবো। আপনি একবার মনোযোগ দিয়ে পড়লেই সব পরিষ্কার বুঝতে পারবেন।


ডলার এনডোর্সমেন্ট কি ও কেন করতে হয়

এনডোর্সমেন্ট মানে হল কোন কিছুর অনুমোদন দেয়া। ডলার এনডোর্সমেন্ট হল ডলার কেনার অনুমোদন বা সার্টিফিকেট বলতে পারেন। আপনি ইচ্ছে করলেই ডলার কিনে ঘুরতে পারেন না। ডলার কিনতে হলে আপনাকে সেটা পাসপোর্টে এনডোর্স করে কিনতে হবে। মানে আপনি টাকা দিয়ে ডলার কিনলেন এবং সেটা কবে, কার নিকট থেকে কিনলেন তার প্রমাণপত্রই হল এনডোর্সমেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার, মানি এক্সচেঞ্জ, ব্যাংক ছাড়া অন্য কারো আইনত ডলার বা অন্য কোন বৈদেশিক মূদ্রা ক্রয় ও বিক্রয় অবৈধ। তাই বুঝতেই পারছেন ডলার এনডোর্স্মেন্ট কেন করতে হয়?

আর আপনার মনে হতে পারে আমি ডলার এনডোর্স কেন করব? আরে ভাই আপনি যখন বিদেশে ঘুরতে যাবেন তখন তো ডলার নিয়ে যেতে হবে তাই না? বাংলাদেশি টাকা নিয়ে তো আর সব খরচ মেটাতে পারবেন না কারণ বৈধভাবে ১০০০০ টাকার বেশি আপনি দেশ থেকে বিদেশে নিয়েও যেতে পারবেন না আবার বিদেশ থেকে নিয়ে দেশে ও ঢুকতে পারেবন না। রেফারেন্স  বাংলা ট্রিবিউন

 

পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করার উপায়

তো আপনার মনে প্রশ্ন এখন ডলার এন্ডোর্সমেন্ট কোথায় করতে হয়, তাইনা? ডলার এনডোর্স্মেন্ট করার জন্য আপনাকে যেকোন ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ এর নিকট যেতে হবে। নিচে এই দুই টাইপের প্রতিষ্ঠান থেকে কিভাবে এনডোর্স করবেন তা বিস্তারিত বলা হল। পাসপোর্ট এন্ড্রোসমেন্ট বা পাসপোর্টে এনডোর্স সবই এই ডলার এনডোর্স্মেন্ট। একেকজন একেক ডাকনামে ডাকে আরকি। 🙂

ব্যাংক

সরকারি বেসরকারি যেকোন ব্যাংক থেকেই আপনি ডলার এনডোর্স্মেন্ট করতে পারেন। তবে সাধারণত সরকারি সোনালি ব্যাংক থেকে করাটাই সুবিধাজনক ও বেশিরভাগ মানুষ করে থাকে। এজন্য আপনাকে সোনালি ব্যাংকের কর্পোরেট শাখাগুলোতে যেতে হবে। ঢাকার মতিঝিল শাখায় করা যায়। তাই আপনি আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার শাখায় করা যায় কিনা।

আপনি পাসপোর্ট নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে বললেই হবে যে আপনি ডলার কিনবেন। তাহলে ওরা আপনাকে ওইদিনের রেট অনুযায়ী টাকা হিসেব করে আর সার্ভিস ফি নিয়ে ডলার দিবে ও পাসপোর্টের শেষের দিকে পাতায় সিল মেরে দিবে। সাথে একটা কাগজ দিবে এটা হল ‘এনডোর্স্মেন্ট সার্টিফিকেট’।

ফি লাগবে ২০০-৩০০ টাকা

সরকারি ব্যাংকের মধ্যে একমাত্র সোনালি ব্যাংকেই কোন একাউন্ট ছাড়াই শুধু পাসপোর্ট নিয়ে যে কেউ ডলার এনডোর্স করতে পারবেন। তবে অন্য সব সরকারি ব্যাংকে আপনার নিজের নামে একাউন্ট থাকা লাগবে।

আর বেসরকারি ব্যংকে একটু ঝামেলা আছে। ডলার সাধারণত লোকাল শাখাগুলোতে দেয় না। লোকাল শাখা থেকে একটা ফরোয়ার্ডীং লেটার নিয়ে ব্যাংকের ঢাকাস্থ মেইন ব্রাঞ্চ বা ‘ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ শাখা থেকে ডলার এনডোর্স করতে হবে।

আমার ভাই ডাচ-বাংলা ফরিদপুর শাখা করাইছিল। সে ওখান থেকে ফরোয়ার্ডীং লেটার নিয়ে এসে ঢাকার ডাচ-বাংলার মতিঝিলের ফরেইন এক্সচেঞ্জ শাখা থেকে ডলার নিয়েছিল। তার ইন্ডিয়ান ভিসা আগেই হয়ে গিয়েছিল, তাই আমি তখন জানলে মানি এক্সচেঞ্জ থেকেই ডলার নিতাম। এখন মানি এক্সচেঞ্জ থেকেই নিই যখন লাগে।তাই আমি পরামর্শ দিব আপনি আগে আপনার ব্যাংকে যোগাযোগ করে দেখুন তাদের প্রসেস কেমন।

 

মানি এক্সচেঞ্জ

আর মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ডলার কেনা বা এনডোর্স করা খুবই সহজ ও ঝামেলা মুক্ত। আপনি শুধু পাসপোর্ট নিয়ে গেলেই হবে ওরা ওই ব্যংকের মতই ওইদিনের রেট অনুযায়ী টাকা হিসেব করে আর সার্ভিস ফি নিয়ে ডলার দিবে। তবে ওরা আগে জিগ্যেস করে ভিসা আছে কিনা, কারণ অনেকেই আবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট না দিয়ে ডলার এনডোর্স্মেন্ট দিয়ে ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন করে। কিন্তু এখন আর মানি এক্সচেঞ্জ এর ডলার এনডোর্স্মেন্ট দিয়ে ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন করা যায় না। তাই মনে রাখবেন ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন করতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা কোন ব্যাংকের ডলার এনডোর্স্মেন্ট লাগবে।

মানি এক্সচেঞ্জ থেকে আপনি এনডোর্স্মেন্ট ছাড়াই ডলার কিনতে পারবেন। যদিও ব্যাপারটা আমার মনে হয় অবৈধ তারপরেও ওরা করে। অবশ্য আপনার লাভ হল আপনার প্রায় ২০০-৩০০ টাকার মত বেচে যাবে। তাই আপনি চাইলেও ওরা এই ফির বিনিময়ে পাসপোর্টের শেষের দিকে পাতায় সিল মেরে দিবে ও সাথে এনডোর্স্মেন্ট সার্টিফিকেট দিবে। তবে সাথে বলে দেই এনডোর্স্মেন্ট ছাড়া ডলার কেনা অবৈধ আর অনেক সময় বর্ডারে এনডোর্স্মেন্ট সার্টিফিকেট দেখতে চায়।

 

ডলার এনডোর্সমেন্ট সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

আচ্ছা আপনি কি জানতে চাননা আমাদের সকল ব্যাংকিং ও মূদ্রা ব্যাবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাংক ডলার কেনাবেচা নিয়ে কি কি নির্দেশনা দিয়ে রাখছে? চলুন সংক্ষেপে জেনে নিই সবচেয়ে দরকারী বিষয়গুলো।

আমি কত ডলার এনডোর্স করতে পারব?

আমরা সাধারণত বিদেশ কেন যাই? ভ্রমণ, চিকিৎসা বা ব্যবসার জন্য তাই না? তাহলে জেনে নিন কোন বিষয়ের কি লিমিট।

বিদেশ ভ্রমণ

ঘুরতে যাবেন? খুব মজা তাই না? কিন্তু কত ডলার নিতে পারবেন? এই সম্পর্কে বলা আছে কোন ব্যক্তি এক বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ (বার হাজার) ইউ এস ডলার বা সমমানের বৈদেশিক মূদ্রা এনডোর্স করতে পারবেন।

তবে এই বার হাজার ডলারের মধ্যে একটু শর্ত আছে। আপনি সার্কভুক্ত দেশ এবং মিয়ানমার এর জন্য  ৫,০০০ ইউ এস ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা। আর সার্কভুক্ত দেশ এবং মিয়ানমার ব্যতিত অন্যান্য দেশ এর জন্য ৭,০০০ ইউ এস ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করতে পারবেন।

চিকিৎসাজনিত

চিকিৎসার জন্য তো বেশি ডলার দরকার হয়। তাই এটি ব্যাংক থেক করাতে হয়। আর এর জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়  কাগজপত্র দেখিয়ে ১০,০০০ (দশ হাজার) ইউ এস ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্স করতে পারবেন। তবে এর চেয়ে বেশি দরকার হলে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করলেই তারা সব ব্যাবস্থা করে দিবে।

ডলার এন্ডর্সোমেন্ট চিকিৎসা

ব্যবসা

ব্যবসার ব্যাপার আলাদা। ব্যবসার জন্য আপনি বিদেশে গেলে আপনার বিদেশে থাকা খাওয়ার খরচ কিন্তু আপনি আপনার ব্যক্তিগত ভ্রমনকোটা থেকেই পূরণ করবেন। কিন্তু মালপ্ত্র কেনেকাটার পেমেন্টের জন্য এলসি করতে হয়। এই ব্যাপারে এখনো বেশি কিছু জানি না তা জানাতে পারছি না। আর এই পোস্ট প্রধানত ভ্রমণকারীদের জন্য তাই দরকারো হবে না। তারপরেও এলসি সম্প্ররকে জানতে এই লিংকে ক্লিক করুণ।

 

ইন্ডিয়ান ভিসার ডলার এনডোর্স

ইন্ডিয়ান ভিসার ডলার এনডোর্স এর ব্যাপারে উপরেই বলেছি। আপনি যদি ভিসা আবেদন করার জন্য ডলার এনডোর্স করতে চান তাহলে মানি এক্সচেঞ্জ থেকে করালে হবে না। যেকোন ব্যাংক থেকে করাতে হবে। ভিসা আবেদনের জন্য কমপক্ষে ১৫০ ডলার এনডোর্স করতে হবে। আর ব্যাংক একাউন্ট থাকলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে করুন।

শেষকথা

ডলার এন্ডোর্সমেন্ট নিয়ে আমার মনে যেসব প্রশ্ন এসেছে তার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। তারপরেও আরো কোন প্রশ্ন থাকলে করুন। আমি উত্তর দিব। প্রশ্নের জন্য সাইটের মেইন কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন করলে আমার কাছে ইমেইলে নোটিফিকেশনে আসবে তাই দ্রুত উত্তর দিতে পারব। আর ফেসবুক কমেন্ট করলে আমাকে ম্যানুয়্যালি চেক করতে হয়, তাই একটু দেরি হতে পারে।

আর আপনার কাছে যদি আপডেট তথ্য থাকে  অথবা কোন তথ্য ভুল মনে হয় তাহলে দয়া করে কমেন্ট করে জানান, আমি আপডেট করব। এতে সবারই উপকার হবে। আমি প্রপার ক্রেডিট দেয়ার চেষ্টা করব।

অনেক ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।

নোটিশঃ সম্পুর্ন লেখা কপি করা নিষেধ। কোথাও কোন বিশেষ অংশ সাহায্যের জন্য দিতে পারেন তবে অবশ্যই ক্রেডিট হিসেবে এই পোস্টের লিংক দিবেন। অনেক সময় দিয়ে আপনাদের সুবিধার্ধে এই লেখাটি লিখা হয়েছে, তাই আশা করব কপি পেস্ট থেকে বিরত থেকে লেখকের কষ্টের মূল্য দিবেন। 🙂

 

Saiful Islam Sohel

ভালো লাগে নিত্য-নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে। লিখতে অনেক ইচ্ছে হয় কিন্তু সময় বের করে লিখতে পারি না। আর কিছু লিখতে পারলে অনেক ভালো লাগে। ২০১৩ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স ইন্টারনেট রিসার্চার ও সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছি আপওয়ার্কে। বর্তমানে বি.এসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মন নেই, পড়তে হচ্ছে বলে পড়ছি। ক্যারিয়ারে নিজের মত করে কিছু করতে মন চায়। ভ্রমনের প্রতি আকর্ষন তীব্র আমার।