নিজেই করে ফেললাম মংগোলিয়া eVisa! 🇲🇳
এখন মঙ্গোলিয়ার eVisa সাইটে বাংলাদেশের নাম আছে। কিছুদিন ধরে এজেন্সিগুলোর মংগোলিয়া ভিসার পোস্ট দেখে মনে হলো, সাইটটা একবার চেক করে দেখি। চেক করতেই বাংলাদেশের নাম পেয়ে গেলাম। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের নাম ছিল না। এরপর প্রথমে আমার ভিসা, তারপর আমার ওয়াইফের ভিসাও নিজেই করে ফেললাম।

মঙ্গোলিয়া টুরিস্ট ভিসা সংক্রান্ত কিছু তথ্য
কথা না বাড়িয়ে কিছু তথ্য দিচ্ছি—
- ভিসা ফি: USD 51.50
- প্রসেসিং টাইম: ৩ কার্যদিবস (আমি দুটো ভিসাই ৩য় কার্যদিবসে বাংলাদেশের সময় সকাল ৬টার দিকে পেয়েছি।)
- ট্র্যাকিং: ওয়েবসাইটের ট্র্যাকিং সিস্টেম ঠিকমতো আপডেট হয় না। আমার ইমেইলে ভিসা চলে এসেছিল, কিন্তু ওয়েবসাইটে তখনও Under Processing দেখাচ্ছিল।
- ডকুমেন্ট ফরম্যাট: শুধু Image আপলোড করা যায়, PDF নয়। তাই PDF থেকে JPG করে আপলোড করেছি। ব্যাংক স্টেটমেন্টের শেষের দুই পেজ স্ক্রিনশট হিসেবে দিয়েছি। যেসব ডকুমেন্ট ২ পেজের ছিল, সেগুলো আলাদা দুটি ইমেজ হিসেবে আপলোড করেছি।
- ফাইলের নাম: যতটা সম্ভব অর্থবহ নাম দিন। যেমন—Cover Letter – Page 01, Cover Letter – Page 02
- ভিসার মেয়াদ ৬ মাস। স্টে পারমিট ৩০ দিন।
- কোন ইনভাইটেশন লাগে নি। হোটেল বুকিং দিয়েছি ইনভাইটেশন এর বদলে।
মঙ্গোলিয়া টুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
eVisa আবেদনে স্পষ্টভাবে শুধু নিচের ডকুমেন্টগুলো চাওয়া হয়—
- পাসপোর্টের বায়ো পেজ
- ছবি
- ফ্লাইট বুকিং
- হোটেল বুকিং
তবে আমি এগুলোর পাশাপাশি নিচের ডকুমেন্টগুলোও দিয়েছিলাম—
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (শেষের দুই পেজ)
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
- ট্রেড লাইসেন্স
- বিজনেস কার্ড
- IRC
- BIN
- কভার লেটার (২ পেজ)
- ট্রাভেল হিস্ট্রি সামারি (২ পেজ)
- NID
- ট্যাক্স সার্টিফিকেট
আমার ওয়াইফের আবেদনে অতিরিক্ত যেগুলো দিয়েছি
- ম্যারেজ সার্টিফিকেট
- স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট
- ২ বছরের চায়না ভিসার কপি
- আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট
মঙ্গোলিয়া টুরিস্ট ভিসা আবেদনের লিংক
মঙ্গোলিয়া টুরিস্ট ভিসা আবেদনের অফিসিয়াল লিংক https://www.evisa.mn/en
মঙ্গোলিয়া টুরিস্ট ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ এর উপায়
মঙ্গোলিয়া টুরিস্ট ভিসা আবেদন ফি ৫১.৫০ ডলার যেটাএ আবাদনের একেবারে শেষ পর্শোপর্যায়ে গিয়ে পরিশোধ করতে হয়। দুঃখের বিষয় VISA কার্ড এক্সেপ্ট করে না। তাই ডুয়েল কারেন্সি MasterCard বা Amex দিয়ে পেমেন্ট করতে হবে।

উপসংহার
এজেন্সিগুলো দেখলাম প্রায় ৮,৫০০–৯,০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে। তাই যারা ঝামেলা নিতে চান না, তারা এজেন্সির মাধ্যমেও করতে পারেন।
ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখলাম, অনেকেই ৭০–৮০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির কথা বলে মংগোলিয়া পাঠানোর ভিডিও করছে। তাই আমার ধারণা, উজবেকিস্তান বা ভিয়েতনামের মতো ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে eVisa তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। যদি মংগোলিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সুযোগ থাকতেই আবেদন করে ফেলতে পারেন।
কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে করুন।
