Skip to main content
পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করার নিয়ম

পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২২

Last updated on January 18th, 2022 at 01:34 pm

আমার আগের পোস্টটি ছিল কিভাবে নতুন ই-পাসপোর্ট করতে হয় সেটা নিয়ে। সেই পোস্টটি এখন প্রতিদিন প্রচুর মানুষ পড়তে আসেন গুগল থেকে। তাই ভাবলাম নতুন পাসপোর্ট করার নিয়মের সাথে সাথে যাদের পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করতে হবে তাদের জন্যও একটা পোস্ট লিখে ফেলি। তার আগে বলে নেই আমি শুধু অন্য জায়গা পড়ে এই পোস্ট লিখছি না। আমি নভেম্বরে নিজে আমার বড় ভাইয়ের ও ডিসেম্বরে আমার নিজের এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করেছি। তাই এখন আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই লিখছি এই পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করার নিয়ম। এটা একটু মনযোগ দিয়ে পড়লেই আপনারা নিজে নিজে আপনাদের আগের এমআরপি থেকে ই পাসপোর্ট এ রিনিউ করতে পারবেন।

লেখাটি অনেক বড় বিধায় প্রয়োজনীয় অংশে দ্রুত নেভিগেট করতে এই  ‘Quick Navigation’ মেনুটি ব্যবহার করতে পারেন। ‘Quick Navigation’ এর পাশের [show] তে ক্লিক করলেই সম্পুর্ন মেনু দেখতে পারবেন।

Quick Navigation

পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু কি?

আপনার বর্তমান পাসপোর্টটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা পাসপোর্ট এর কোন তথ্য পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে নতুন আরেকটি পাসপোর্ট এর আবেদন করা ও নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করার প্রক্রিয়ায় হল পাসপোর্ট রিনিউ করা বা রি-ইস্যু। উভয় ক্ষেত্রেই নতুন পাসপোর্টটি হাতে পাওয়ার পর আপনার আগের পাসপোর্ট বাতিল করা হয় ও নতুনটি সচল হয়। আবেদন করে নতুন যে পাসপোর্ট পাবেন তার নাম্বারও নতুন হবে কিন্তু আপনার আগের পাসপোর্ট এর নাম্বার নতুন পাসপোর্ট এ থাকবে। সাধারণত আপনার বর্তমান পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ৮ মাস থাকা অবস্থাতেই পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু আবেদন করতে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। কারণ প্রায় সব দেশই পাসপোর্ট এর মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস না থাকলে ভিসা দেয়া না ও ইমিগ্রেশন এন্ট্রি দেয় না।

পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়মাবলী/ধাপসমুহ

আসলে নতুন পাসপোর্ট এর আবেদন করা ও রিনিউ আবেদন করার প্রসেস প্রায় একই। শুধু অল্প কিছু পার্থক্য আছে। সংক্ষেপে পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করার নিয়ম বা ধাপ এগুলো। এই লিস্ট দেখলেই হয়ত বুঝে যাবেন কি করতে হবে। আর না বুঝলেও সমস্যা নাই নিচে আমি প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত লিখছি নিচে।

  1. পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা
  2. আবেদন ফরম পূরণ করা
  3. পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু ফি জমা দেয়া
  4. আবেদন ফরম পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয়া ও বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করা
  5. পুলিশ ভেরিফিকেশন (ক্ষেত্র বিশেষে)
  6. পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করা
  7. পাসপোর্ট সংগ্রহ করা

১. পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি লাগে/প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা

পাসপোর্ট রিনিউ করতে যেসব কাগজপত্র লাগে তা সব নতুন পাসপোর্ট করার মতই। তবে যেহেতু রিনিউ আবেদনকারীদের আগের একটা পাসপোর্ট আছে তাই অনেক পাসপোর্ট অফিসে কাগজের কিছু শিথিলতা থাকে। সবচেয়ে বেস্ট হল আপনি যে পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করবেন সে অফিসে কেউ রিনিউ আবেদন করে থাকলে তার খোজ নেয়া। যাইহোক চলুন দেখে নেই পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি লাগে!

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ (নিম্নোক্ত বয়স অনুযায়ী)
    • ১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ
    • ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ
    • ২০ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক
  • পেশাগত প্রমাণ (যেমন ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি, জব হোল্ডার হলে জব আইডী, ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, কৃষক হলে জমির খতিয়ান এসব)
  • ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার, উকিল ও অন্যান্য পেশার লোকদের ক্ষেত্রে পেশাগত সনদ
  • সরকারী চাকুরীজীবীদের জন্য NOC বা Government Order-সরকারি আদেশ (GO/জিও)
  • নাগরিক সনদপত্র
  • পাসপোর্টে স্বামী বা স্ত্রীর নাম নতুন যুক্ত করলে কাবিননামা (কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আবশ্যিক)
  • আগে কোন পাসপোর্ট থেকে থাকলে সেগুলোর মুল কপি ও ডাটা পেইজের ফটোকপি
  • ১৮ বছরের নিচের আবেদনকারীদের জন্য তাদের পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • ১৫ বছরের নিচের আবেদনকারীদের পিতা-মাতার পাসপোর্ট সাইজ ছবি অথবা বৈধ অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজ ছবি দিতে হবে
  • ৬ বছরের নিচের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও 3R সাইজের (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) ম্যাট পেপারে ল্যাব প্রিন্ট রঙ্গিন ছবি দিতে হবে

এছাড়া ঢাকার পাসপোর্ট অফিসগুলোতে বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিল, ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র এসব লাগতে পারে।

এখন হয়ত আপনি কনফিউশনে পড়ে গেছেন। কিন্তু আস্তে আস্তে চিন্তা করে দেখুন আপনার পেশা ও যে অফিসে আবেদন করবেন সেটা অনুযায়ী আপনার ডকুমেন্টস রেডী করুন। কোন কনফিউশান থাকলে আপনার পাসপোর্ট আবেদন করেছেন এমন কাউকে জিজ্ঞেস করুন অথবা এখানে কমেন্ট করুন।

এখন আমি আমার ২ টা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। এই নভেম্বর ডিসেম্বরে ফরিদপুর অফিসে আমি আর আমার ভাইয়ের পাসপোর্ট রিনিউ করলাম। আমার ভাই ব্যবসায়ী হওয়ায় তার ট্রেড লাইসেন্স, বিবাহিত হওয়ায় কাবিননামা এসব দিয়েছে। আর আমার পেশা ফ্রিল্যান্সার হওয়ায় আমার কোন কাগজপত্র লাগে নাই।

২. পাসপোর্ট রিনিউ করার ফরম পূরণ করা

পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে কি কি কাগজ লাগবে তা তো জানা হল। এখন পাসপোর্ট রি-ইস্যু ফরম পুরন করতে হবে অনলাইনে। পাসপোর্ট ফরম পুরন করার জন্য প্রথমেই এই লিংকে গিয়ে আপনার বর্তমান ঠিকানার জেলা ও পুলিশ স্টেশন সিলেক্ট করে ইমেইল ও ফোন নাম্বার দিয়ে রেজিস্টেশন করে নিন। এরপর ধাপে ধাপে খুব সতর্কতার সাথে আবেদন ফরম পুরন করুন। এখানে ফরম পুরন করার সময় এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন।

  • যারা রিনিউ বা রি-ইস্যু করবেন তাদের অবশ্যই NID/BRC+MRP+নতুন আবেদনের সব মৌলিক তথ্য হুবুহ এক হতে হবে। মৌলিক তথ্য বলতে আপনার পাসপোর্ট এর তথ্য পাতার দুই পাতার সব তথ্যই তবে শুধু ইমার্জেন্সি কন্টাক বাদে। যদি তথ্যে গরমিল থাকে তাহলে তথ্য সংশোধন করে আবেদন করতে হবে। নতুন পাসপোর্ট এর তথ্য NID/BRC অনুযায়ী হবে। আপনার MRP বা আগের পাসপোর্টে যাই থাকুক না কেন। তাই কোন পরিবর্তন করতে হবে আগে NID/BRC সংশোধন করতে হবে। তারপর এফিডেভিড করে আবেদন করতে হবে।
  • ধরুন আগে MRP করার সময় অনেকেই NID তে MD থাকলেই পাসপোর্ট এ দিয়েছেন MOHAMMAD। এখন যারা রিনিউ করতে চাইবেন তাদের দুইটা অপশন আছে। একঃ NID সংশোধন করে MD এর জায়গায় MOHAMMAD করে নেয়া। অথবা রিনিউ আবেদনে MD দিয়ে আবেদন করা। এতে পাসপোর্ট পেতে কয়েকমাস সময় লাগবে যদিও।
  • বয়স, বাবা মায়ের নামের বানান বা নাম পরিবর্তন সব ধরনের পরবর্তনেই এখন এফিডেভিড ও অন্যান্য সাপোর্টিং ডকুমেন্টস দিয়ে আবেদন করতে হবে।
  • কোন পরিবর্তন না থাকলে নতুন আবেদন ফরম খুবই সতর্কতার সাথে আগের পাসপোর্টের মত হুবুহ তথ্য দিয়ে পুরন করুন।
  • পুর্ন নাম ও Given name ও Surname আগের পাসপোর্ট অনুযায়ী অথবা সংসোধন যেভাবে করতে চান সেভাবে দিন।
  • কোন অবস্থাতেই কোন নামে ডট (.), কমা (,), হাইফেন (-) দিবেন না। আপনার সার্টিফিকেট, NID বা জন্ম নিবন্ধন যেখানেই থাকুক না কেন। এটা না দিলে কোন সমস্যা হবে না। দিলেই বরং অনাকাংখিত ঝামেলা হতে পারে।
  • স্থায়ী ঠিকানা আগের পাসপোর্ট অনুযায়ী দিন। অথবা চেঞ্জ করতে চাইলে নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।
  • বর্তমান ঠিকনা আগে যেটা দিয়েছেন সেটা থাকলে দিন অথবা পরিবর্তন হলে নতুনটা দিন। ঠিকানা পুরনের সময় পূর্নাংগ ঠিকানা দিন। শহরের হোল্ডীং সহ ঠিকানা হলে City/Village/House ও Road/Block/Sector (optional) এই দুইটা ফিল্ডই ব্যবহার করুন। গ্রামে হলে শুধু City/Village/House এ গ্রামের নাম দিলেই হয়, Road/Block/Sector (optional) যেহেতু থাকে না তাই এটা অপশনাল।
  • ID Documents সেকশনে অবশ্যই আগের পাসপোর্ট এর তথ্য দিবেন।
    • “Yes, I have a Machine Readable Passport (MRP)” সিলেক্ট করবেন।
    • “Select reissue reason” এ সঠিক কারণ দিবেন। যেমন মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা মেয়াদের কাছাকাছি চলে আসলে EXPIRED দিবেন। MRP পাসপোর্ট এর মেয়াদ থাকা সত্যেও সখন করে ই-পাসপোর্ট করতে চাইলে দিবেন ‘Conversion to Epassport’. এছাড়া হারিয়ে গেলে Lost/Stolen আর অন্যান্য ক্ষেত্রে বাকিগুলা দেখে দিবেন।
    • “Previous passport number” এ আগের পাসপোর্ট নাম্বার দিবেন। একাধিক পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সর্বশেষটার নাম্বার দিবেন।
    • “Select date of issue” এ আগের পাসপোর্টটি দেখে ইস্যু তারিখ দিবেন।
    • “Select date of expiration” এ আগের পাসপোর্টটি দেখে মেয়াদ শেষের তারিখ দিবেন।
  • “Do you have passports of other countries?” এ আপনার অন্য কোন দেশের পাসপোর্ট থাকলে Yes দিয়ে সেটার তথ্য দিতে হবে। আমাদের না থাকলে শুধু No দিলেই হবে।
  • এখন ID Documents সেকশনে ‘Identification information’ এ সতর্কথার সাথে আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধনের নাম্বার দিবেন (যেটা দিয়ে আবেদন করবেন)।
  • Parental information এ বাবা মায়ের নাম দিবেন। তাদের National ID নাম্বার না দিলেও সমস্যা নাই।
  • Guardian information শুধু যাদের দরকার তাদের দিবেন। এতা শুধু তাদের জন্য যাদের লিগ্যাল গার্ডিয়ান আছে। বাকিরা এটাতে কিছুই পুরন করবেন না।
  • Spouse Information এ ম্যারিড দিলে কাবিননামা দিতে হবে ও স্পাউজ এর নাম ও অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। আগের পাসপোর্ট এ স্পাউজ নাম থাকলে নতুন করে আর কাবিননামা দিতে হয় না।
  • Emergency contact আপনি চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন কোন সমস্যা হবে না।
  • Passport options এ আপনি আবেদনের ধরন ও পৃষ্ঠা সংখ্যা সিলেক্ট করবেন ও সে অনুযায়ী পাস্পোর্ট ফি দেখাবে।
  • Delivery Options & Appointment এ আপনাকে দেখাবে, আপনি যে কেন্দ্রে আবেদন করবেন সেখানে কোন এপয়েনমেন্ট লাগে কিনা। সাধারণত ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এপয়েনমেন্ট লাগে না। আর ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে এপয়েনমেন্ট লাগে। এখন নিয়মিত আবেদনে ২ মাসের মাঝেও ডেট পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে জরুরি সিলেক্ট করে দেখুন আগে পান কিনা। তাও না পেলে ও আপনার দ্রুত লাগলে জরুরি বা Express আবেদন সিলেক্ট করে আবেদন সাবিমিট করুন আর ব্যাংকে অতিব জরুরি/Super Express ফি প্রদান করুন। এতে আপনি কোন এপয়েনমেন্ট ছাড়াই যেকোনদিন আবেদন জমা দিতে পারবেন।
  • শেষ ধাপে আপনাকে একটা সামারি দেখাবে যে আপনি আবেদন চেক করে দেখুন কোন ভুল আছে কিনা। সব কয়েকবার চেক করে দেখুন ঠিক আছে কিনা। সব ঠিক থাকলে সাবমিট করে দিন। একবার সাবমিট করলে আপনি আর এডিট করতে পারবেন না।
  • এখন আপনি সামারি প্রিন্ট করতে পারবেন ও ফর্ম ডাউনলোড করতে পারেন।
  • সবশেষে এপ্লিকেশন ফরমের শেষ পাতায় আপনার স্বাক্ষর ও তারিখ দিন
  • আবেদন খুব সতর্কতার সাথে পুরন করতে হবে। কারণ একটু ভুল হলেই বলবে আবেদন ক্যানসেল করতে। আর আপনি নিজে নিজে সাইট থেকে আবেদন ক্যানসেল করতে পারবেন না। এর জন্য অফিসে আবেদন করলে কিছুদিন পর আবেদন ডিলিট হবে। তা হয়রানি এড়াতে সতর্কতার সাথে ফরম পুরন করুন।
  • একটা NID বা BRC দিয়ে একবার আবেদন সাবমিট করে ফেললে সেটা ডিলিট না হওয়া পর্যন্ত ওই NID বা BRC দিয়ে আর আবেদন করতে পারবেন না।
  • কোন তথ্য সংশোধন করতে হলে এফিডেবিট ও সংশোধন আবেদন করতে হবে। তারপরেও কয়েকমার Bcakened verification এ আটকে থাকবে। আপনাকে বার বার পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে তাগাদা দিতে হবে

৩. পাসপোর্ট রি-ইস্যু ফি ও আবেদনের ধরন

নতুন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন এর ফি আর পাসপোর্ট রিনিউ ফি, রি-ইস্যু ফি বা রিনু ফি একই! আবেদনের ধরন ও পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠা সংখ্যার উপর ভিত্তি করে পাসপোর্ট ফি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। নিচের টেবিলে দেখে নিন পাসপোর্ট করার খরচ।

পৃষ্ঠা সংখ্যামেয়াদনিয়মিত
(২১দিন)
জরুরি
(৭ দিন)
অতিব জরুরি
(২ দিন)
৪৮ পৃষ্ঠা৫ বছর৪০২৫৬৩২৫৮৬২৫
৪৮ পৃষ্ঠা১০ বছর৫৭৫০৮০৫০১০৩৫০
৬৪ পৃষ্ঠা ৫ বছর ৬৩২৫ ৮৬২৫১২০৭৫
৬৪ পৃষ্ঠা ১০ বছর ৮০৫০ ১০৩৫০১৩৮০০
  • ১৮ বছরের কম বয়সী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট পাবেন।

৩.১ পাসপোর্ট রিনিউ ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

ফরম পুরন করার পর আপনি এখন দুই উপায়ে পাসপোর্ট রিনিউ করার ফি জমা দিতে পারেন।

৩.১.১ ব্যাংকে রি-ইস্যু ফি জমা দেয়া

এখন আপনার আশেপাশে প্রায় অব ব্যাংকেই এ চলানের মাধ্যমে পাসপোর্টের টাকা জমা দিতে পারবেন। তবে সব ব্যাংক নাও নিতে পারে। তাই আগে জেনে নিন আপনার সুবিধাজনক কোন ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা নেয়। তারপর নিচের ডকুমেন্টস নিয়ে ফি জমা দিন।

  • NID বা জন্ম নিবন্ধন সনদ (যেটা দিয়ে পাসপোর্ট আবেদন করেছেন)
  • এপ্লিকেশন সামারি পেইজ
  • আর ব্যাংকে একটা ফর্ম দিবে পুরন করতে

৩.১.২ এ-চালানের মাধ্যমে নিজে জমা দেয়া

এছাড়া আপনি চাইলে রকেট, বিকাশ, ডিবিবিএল নেক্সাস বা অন্যান্য ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টার্কার্ড দিয়ে অনলাইনে ও এ-চালানের এপে পাসপোর্ট ফি দিতে পারবেন।

ওয়েবসাইতের মাধ্যমে দিতে https://ibas.finance.gov.bd/acs/general/sales এই লিংক গিয়ে পাসপোর্ট ফি সিলেক্ট করে আবেদনের প্রকৃতি ও বিতরণের প্রকৃতি সিলেক্ট করে পছন্দমত ব্যাংকের গেটওয়ে সিলেক্ট করে ফি দিন। এই সাইটে ফি দিতে কোন রেজিস্ট্রেশন এর দরকার নাই।

একই ভাবে AChallan এর মোবাইল এপের মাধ্যমেও ফি দিতে পারবেন। এপ ডাউনলোড করুন এন্ড্রয়েড ও আইওএস। এপে রেজিস্ট্রেশন করে পাসপোর্ট ফি সিলেক্ট করে NID নাম্বার দিলে অটো নাম ও ঠিকানা সার্ভার থেকে চলে আসবে ও শেষের দিকে পেমেন্ট অপশন পাবেন।

দুইভাবেই পেমেন্ট সম্পন্ন হলে চালান ডাউনলোড করতে পারবেন। চালান ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। চালান চাইলে ভেরিফাই করতে পারেন এই সাইট থেকে।

সতর্কতাঃ

  • পাসপোর্ট আবেদনকারীর নাম ও চালানের নাম একই দিতে হবে। না হলে আবেদন নিবে না।
  • চালানে ডট (.) থাকা বা না থাকায় কোন সমস্যা হবে না।
  • এ চালানে পেমেন্ট ফেইল হতে পারে। মানে টাকা কাটবে কিন্তু চালান আসবে না এমন হতে পারে।

৪. আবেদন পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয়া ও বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করা

উপরে পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে/প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা সেকশনে আমরা কি কি কাগজ লাগবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু এখানে আমি সংক্ষেপে আবার কাগপত্রের লিস্ট দিচ্ছি যাতে আপনি অফিসে যাওয়ার আগে কাগজগুলো চেক করে নিতে পারেন।

  • চালান কপি (পেমেন্ট স্লিপ)
  • এপ্লিকেশন সামারি এপয়েনমেন্টসহ (যদি লাগে)
  • এপ্লিকেশন ফরম (৩ পৃষ্ঠা)
  • NID বা জন্ম নিবন্ধরের ফটোকপি (আসলটাও দেখাতে হবে)
  • পেশাগত প্রমাণ (স্টুডেন্ট আইডি, জব আইডী, ট্রেড লাইসেন্স, NOC, GO ইত্যাদি)
  • কাবিননামা (যদি লাগে)
  • নাগরিক সনদপত্র
  • ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি
  • পুর্ববর্তী পাসপোর্ট এর ফটোকপি

এখন ফরম পুরন করে, পাসপোর্ট পেমেন্ট করে নিমোক্ত কাগজপত্র নিয়ে আপনার এপয়েনমেন্ট ডেটে (আপনার অফিসে এপয়েনমেন্ট না লাগলে যেকোনদিন) পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। সিরিয়াল ধরে কাগজ জমা দিন কাউন্টারে। সব কিছু ঠিক থাকলে তারা আপনার আবেদন জমা নিবে এবং কোন রুমে যেতে হবে সেটা বলে দিবে। রুম নাম্বার অনুযারি পাঠানো রুমে গিয়ে আপনার আঙ্গুলের ছাপ দিন, ছবি তুলুন, চোখের স্ক্যান এবং সিগনেচার দিয়ে একটা রশীদ দিবে সেটা নিয়ে ভালো করে দেখুন কোন ইনফরমেশনে ভূল আছে কি না। এই রশীদে যে ইনফরমেশন দেখাবে তা আপনার পাসপোর্টে হুবুহু সেইম ই প্রিন্ট হবে। তাই কিছু ভূল দেখতে পেলে সাথে সাথে দ্বায়ীত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। নাহলে পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে গেলে আর সংশোধন করতে পারবেন না।

কোন ঝামেলা হলে বা হয়রানির স্বিকার হলে ওই পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকের সাথে কথা বলুন। তারা অনেক হেল্পফুল। আপনি আপনার কেন্দ্রের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে এই লিস্টে থাকা ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

৫. পুলিশ ভেরিফিকেশন

পাসপোর্ট রি-ইস্যু বা রিনিউ আবেদনে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন হয় না। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন হতে পারে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে।

  • যদি আপনি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করেন
  • এছাড়া আপনি যদি কোন বিশেষ পরিবর্তন করেন তাহলেও পাসপোর্ট অফিস চাইলে পুলিশ ভেরিফিকেশন চাইতে পারে। কিন্তু এটা খুব রেয়ার।

৬. পাসপোর্ট রি-ইস্যু আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করা

এবার পাসপোর্ট পাওয়ার ম্যাসেজের জন্য অপেক্ষা করুন। আর অনলাইনে মাঝে মাঝে ঢুকে আপনার পাসপোর্ট এখন কোন অবস্থায় আছে দেখুন। এই লিঙ্কে গিয়ে https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status আপনার Application ID ( পাসপোর্ট এর ছবি তোলার পরে আপনাকে যে রশীদ দেবে সেখানে লেখা থাকবে ) অথবা Online Registration ID (ফরমে বা সামারি পেইজে আছে) এবং জন্ম তারিখ দিইয়ে ক্যাপচা ভেরিভাই করুন। তাহলেই আপনার পাসপোর্ট এর স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। আর আপনি যদি নিজে একাউন্ট খুলে এপ্লাই করেন তাহলে একাউন্টে লগিন করেও স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। এছাড়া এসএমএস করেও স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। EPP স্পেস Application ID লিখে মসেজ করুন ২৬৯৬৯ নাম্বারে। ফিরতি মেসেজে আপনার পাসপোর্ট এর বর্তমান অবস্থার আপডেট পাবেন।

যাদের আবেদন ‘Pending Backend Verification‘ এ আটকে আছে তাদের একাধিকবার পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকের সাথে দেখা করা তাগদা দিলে একটু দ্রুত পাবেন। তা না হলে ২ মাস বা তার বেশিও লাগতে পারে। যাদের NID+MRP+নতুন আবেদনের সাথে তথ্যে মিসম্যাচ তাদেরই এই অটোমেটেড সফটওয়্যার ভেরিফিকেশন স্টেপে আটকে যায়।

এখন মেসেজ বা অনলাইন সাইটের স্ট্যাটাস গুলো দ্বারা কি বোঝায়? সে জানতে এই ছবিটি দেখুন। এখানে খুব সুন্দর করে পাসপোর্ট এর প্রতিটি স্ট্যাটাসের অর্থ ও কতদিন একেক ধাপে আটকে থাকে তার একটা ধারণা দেয়া হয়েছে।

এই দুইটা স্ট্যাটাস গাইড শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে E-Passport Bangladesh (Volunteer Group) গ্রুপ থেকে। ফেসবুকে যতগুলো পাসপোর্ট সংক্রান্ত গ্রুপ আছে তার মাঝে এইটা বেস্ট। এডমিন ও মেম্বাররা এক অন্যকে হেল্প করে শুধু। দালাল নাই, ফলে ইনবক্সে আসুন একথা শুনতে হবে না। আমিও প্রতিদিন অনেক প্রশ্নের উত্তর দেই এই গ্রুপে আর শিখি অন্যদের থেকে।

৭. পাসপোর্ট সংগ্রহ করা

সব কিছু ঠিক ঠাক মত হয়ে গেলে আপনি আপনার আবেদনের ধরনের উপর ভিত্তি করে কিছুদিন পর মোবাইলে ও ইমেইলে মেসেজ পাবেন যে আপনার পাসপোর্ট কালেকশনের জন্য রেডি। মেসেজ পেলে আপনার ডেলিভারি স্লিপ, আইডি কার্ড ও আগের পাসপোর্টগুলো নিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন। 

যার পাসপোর্ট তাকেই আনতে হবে। তবে কোন কারনে না যেতে পারলে অথোরাইজেশন লেটার দিয়ে কাউকে দিয়ে আনানোর চেষ্টা করতে পারেন। আমি চেষ্টা করেও ফরিদপুর থেকে অন্যজনের পাসপোর্ট আনতে পারি নাই। তাই চেষ্টা করুন নিজে আনতে। একান্তই না পারলে ও পরিবারের কেউ হলে অথোরাইজেশন লেটার, আপনার ও আবেদনকারির আইডী ও ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে চেষ্টা করে দেখুন।

ধন্যবাদ

আশা করি পাসপোর্ট রি-ইস্যু বা রিনিউ করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি। তারপরেও আরো কোন প্রশ্ন থাকলে করুন। আমি উত্তর দিব। প্রশ্নের জন্য সাইটের মেইন কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন করলে আমার কাছে ইমেইলে নোটিফিকেশনে আসবে তাই দ্রুত উত্তর দিতে পারব। ফেসবুকেও কমেন্ট করতে পারেন তবে উত্তর একটু দেরি হতে পারে।

আর আপনার কাছে যদি আপডেট তথ্য থাকে অথবা কোন তথ্য ভুল মনে হয় তাহলে দয়া করে কমেন্ট করে জানান, আমি আপডেট করব। এতে সবারই উপকার হবে। আমি উপযুক্ত ক্রেডিট দেয়ার চেষ্টা করব।

অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে ধৈর্য নিয়ে এত বড় লেখা পড়ার জন্য। আমার লেখায় অনেক বানান ভূল হতে পারে আশা করি সেগুলোকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

পাসপোর্ট রিনিউ করতে কত দিন লাগে?

আবেদনের তথ্যে কোন গরমিল না থাকলে উপরে ফি সেকশনে উল্লিখিতে সময়ের মাঝেই পাওয়া যাবে। নরমাল আবেদনে ১৫/১৬ দিনেই পাওয়া যাবে।

পাসপোর্ট রেনু করতে কত টাকা লাগে?

আবেদনের ধরন ও পাসপোর্ট এর পৃষ্ঠা সংখ্যার উপর ভিত্তি করে পাসপোর্ট রিনিউ করতে ৪০২৫ থেকে ১৩৮০০ টাকা লাগবে।

Pending backend verification মানে কি?

ই-পাসপোর্ট আবেদন করলে সবার আবেদনের সব তথ্য যেমন আবেদন ফর্মে দেয়া তথ্য, NID/BRC বা আগের পাসপোর্টের সাথে সব তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। এছাড়া অন্যান্য পাসপোর্ট হোল্ডারদের সাথে আপনার তথ্য, ফিংগারপ্রিন্ট, ছবি ইত্যাদি এসব মিলিয়ে দেখা হয় enrolment pending backend verification স্ট্যাটাস এর ধাপে। এটা করা হয় একটা অটোমেটেড সফটওয়্যার এর সাহায্যে। যাদের কোন সমস্যা থাকে না তাদের আবেদন pending backend verification ভেরিফিকেশন আটকে থাকে না। কিন্তু যাদের কোন ঝামেলা হয় তাদের আবেদন এখানে কয়েকমাসও আটকে থাকতে পারে। সেজন্য আপনাকে বারবার পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা করে কেন আটকে আছে জানতে হবে ও কোন তথ্য দরকার হলে অফিসারকে দিতে হবে ও দ্রুত পাসপোর্ট পেতে তাকে তাগাদা দিতে হবে।


লেখক সম্পর্কে

Freelance Internet Researcher & Lead Generation Specialist at | Website

আমি সাইফুল ইসলাম সোহেল। ভালো লাগে নিত্য-নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ও অন্যকে জানাতে। লিখতে অনেক ইচ্ছে হয় কিন্তু সময় বের করে লিখতে পারি না। আর কিছু লিখতে পারলে অনেক ভালো লাগে। ২০১৩ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স ইন্টারনেট রিসার্চার ও সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছি আপওয়ার্কে। বর্তমানে বি.এসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মন নেই, পড়তে হচ্ছে বলে পড়ছি। ক্যারিয়ারে নিজের মত করে কিছু করতে মন চায়। ভ্রমনের প্রতি আকর্ষন তীব্র আমার। তবুও দেখা যায় বছর শেষে দু এক জায়গার বেশি যাওয়া হয় না। 🙁 আরো পড়ুন https://nirbodh.com/about/

Saiful Islam Sohel

আমি সাইফুল ইসলাম সোহেল। ভালো লাগে নিত্য-নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ও অন্যকে জানাতে। লিখতে অনেক ইচ্ছে হয় কিন্তু সময় বের করে লিখতে পারি না। আর কিছু লিখতে পারলে অনেক ভালো লাগে। ২০১৩ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স ইন্টারনেট রিসার্চার ও সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছি আপওয়ার্কে। বর্তমানে বি.এসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মন নেই, পড়তে হচ্ছে বলে পড়ছি। ক্যারিয়ারে নিজের মত করে কিছু করতে মন চায়। ভ্রমনের প্রতি আকর্ষন তীব্র আমার। তবুও দেখা যায় বছর শেষে দু এক জায়গার বেশি যাওয়া হয় না। :-( আরো পড়ুন https://nirbodh.com/about/

কমেন্ট করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.