Skip to main content
পাসপোর্ট রিনিউ অভিজ্ঞতা

এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট রিনিউ করলাম মাত্র ১৬ দিনে!

Last updated on January 18th, 2022 at 01:27 pm

আমি এই মাসে আমার আগের এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করে নতুন ই-পাসপোর্ট করলাম। আমার পাসপোর্ট কালেকশনের জন্য রেডী হয়েছে আজ বিকেলে। এছাড়া গত মাসে আমার ভাইয়ের আগের MRP পাসপোর্ট ও রিনিউ করার আবেদনের সব আমিই করে দিয়েছিলাম। তাই ভাবলাম আমার পাসপোর্ট রিনিউ এর অভিজ্ঞতা বা গল্পটা লিখে রাখি। আপনারা যারা পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করতে চান তারা পড়ুন পাসপোর্ট রিনিউ করার বিস্তারিত নিয়ম। এই পোস্টটাতে পাবেন A to Z বিস্তারিত। যাইহোক আজকের এই পোস্টে শুধু আমার পাসপোর্ট রিনিউ করার গল্পটা বলব।

প্রথমেই সারাংশ দেই পরে আসল গল্পঃ

RPO – Faridpur

Delivery type: Regular

  • Enrolment & Enrolment progress : 30 November
  • Enrolled, Pending Backend Verification & Pending Final Approval: 1 December
  • Pending in Print Queue (AD approval): 6 December
  • Passport Shipped: 14 December
  • Passport Ready for Issuance: 15 December

পাসপোর্ট রিনিউ করতে নিচের লিস্টের কাগজগুলো জমা দিয়েছি। এক্সট্রা কাগজ লাগে নাই কিছু। ঢাকার কিছু অফিসে অবশ্য নাগরিফ সনদ, বিলের কপি ইত্যাদি চায়। পাসপোর্ট রিনিউ করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি লাগবে তা সম্পুর্ন জানতে পড়ুন পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি কি লাগে

  • Chalan
  • Summary Page
  • Form
  • NID Copy
  • Old Passport Copy

আমি ফ্রিল্যান্সার তাই পেশা Others দিয়েছি আর কাউন্টার কোন কাগজ চায়নি।

আমাদের ফরিদপুরে রি-ইস্যু পাসপোর্ট এর তথ্যে কোন ঝামেলা না হলে মোটামুটি ১৬ দিনেই পাওয়া যায় মনে হচ্ছে। কারণ গতমাসে আমার ভাইয়ের MRP টূ E-Passport রিনিউ ও ঠিক ১৬ দিনে হইছে। এছাড়া তার আগের মাসে আমার ভাবীর নতুন পাসপোর্টও ১৬ দিনে পেয়েছি নরমাল ডেলিভারিতে। তবে আমার মায়ের নতুন পাসপোর্ট পেতে প্রায় ৫০ দিনের মত সময় লেগেছিল কারণ পুলিশ ভেরিফিকেশন দেরিতে হয়েছে বলে। এছাড়া জরুরি ছিল না বলে খুব তাড়াহুড়োও করিনি সেটার জন্য।

আমি পাসপোর্ট বা যেকোন কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে সময় নিয়েই করি। যেমন আমার পাসপোর্ট এর মেয়াদ ছিল ৩ জুন ২০২২ পর্যন্ত কিন্তু এখনই রিনিউ করেছি কারণ কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ না থাকলে পাসপোর্ট ব্যবহার করা যায় না। এছাড়া কোন ঝামেলা হলে যাতে জরুরি মুহুর্তে ঝামেলা না হয় সেজন্য আগে থেকেই হাতে সময় নিয়ে করে ফেললাম।

আসল কাহিনী (দালালের সাহায্য)

যাইহোক আসল গল্প এবারঃ অনেকেরই মত আমারও ঝামেলা ছিল। আমার বাবার আমার আইডি কার্ডে আঃ গফুর মুন্সী। কিন্তু MRP এর টাইমে সেই সময়কার নিয়ম মত Abdul Gafur Munsi দিয়ে পাসপোর্ট করেছিলাম। মানে আঃ এর জন্য A না দিয়ে Abdul দিয়েছিলাম। তো ই-পাসপোর্টেও আগের MRP এর সাথে মিল রেখে Abdul Gafur Munsi ফরম পুরন করে জমা দিতে গেলে কাউন্টার থেকে Abdul এর নিচে দাগ দিয়ে বলে এফিডেভিড লাগবে। এডির কাছে গেলে তিনিও তাই বললেন।

মাঝে একটা কথা বলি, ১৫ দিন আগে আমার ভাইইয়েরও বাবার নামে একই কাহিনি ছিল কিন্তু কাউন্টার খেয়াল করেই বা কোন কারনে আটকায় নাই। উনার পাসপোর্ট ঠিকই হয়ে গেছিল ঝামেলা ছাড়া।

যাইহোক দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কোর্ট এরিয়ার গেলাম এফিডেভিট করতে। আমার কিন্তু আসলে অত দুঃখ লাগে নাই। কোন জিনিস এর প্যাচ বুঝতে আমার ভাল লাগে। আমি কয়েক বছর থেকেই আমার Nirbodh.com ব্লগে পাসপোর্ট, ভিসা বা এইসব বিষয়ে মানুষকে তথ্য দেই। তাই এটা ভেবে ভালই লাগছিল যে দেখি এই সমস্যা যাদের তারা কেম্নে কি করে। 🙂

এখন কোর্ট এরিয়ার গিয়ে এক বন্ধুর সাথে বললাম এফিডেভিড করব। এরই মাঝে সে একজনকে দেখিয়ে বলল ও পাসপোর্ট অফিসে দালাল। আমিও ভাবলাম একটু কথা বলে দেখি। বললাম দেখুন এই এই ব্যাপার আপনি আমাকে এনরোলমেন্ট করিয়ে দিতে পারব কিনা। সে বলল পারব ব্যাপার না। তবে আটকে যাবে হ্যান ত্যান। আমি বলি ভাই আটকা আটকি আমি দেখব আপনি শুধু এনরোলমেন্ট করিয়ে দিলেই হবে। বলল আচ্ছা পারব। তারপর আমাকে হুদাই ভয় দেখাল যে আপনার পুলিশ ভেরিফিএকশন হবে 😀 আমি বললাম হবে না, আর হলে হবে সমস্যা নাই। এগুলা আসলে আরেকটু বেশি টাকা নেয়ার জন্য আমাকে ভয় দেখাচ্ছিল বুঝলাম 😀

যাইহোক তাকে টাকা দিলাম আর উনি ফর্মে বিশেষ একটা মার্ক দিয়ে দিলেন। পরের দিন কাউন্টারে জমা দিলাম। আজ উনারা পাসপোর্ট ও আইডির মেইন কপিও চাইল না। শুধু ফর্মে As per MRP লিখে ছবি তোলার লাইনে দারিয়ে গেলাম। ব্যস বাকিসব হয়ে গেল কোন ঝামেলা ছাড়াই।

আমি দালাল কোনদিন প্রমোট করি না আবার অনেক ঘৃনাও করি না। কারণ আমি চাই সবাই জেনে বুঝে নিজের কাজ করুক ভালমত। আবার ঘৃনা করি না কারণ যারা ঝামেলা পরে তাদের এরাই হেল্প করে টাকার বিনিময়ে। আগে MRP টাইমে দেখতাম একজন গ্রামের মানুষ কিভাবে সত্যায়িত সহ এতসব করবে? তখন তারাই হেল্প করত। কিন্তু আমরা যারা সচেতন তারা কিন্তু নিজের কাজ নিজেই করতে পারি যা আমাদের জন্যই সুবিধা।

আর আমি পাসপোর্ট অফিসের লোকদেরও কোন দোষ দিচ্ছি না। কারণ এটা উপর মহলের সিদ্ধান্ত যে এখন পাসপোর্ট শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে হবে। তারা তাদের মতই কাজ করেছে। আর এফিডেভিড বা হলফনামা হলে এর আইনত স্বীকারোক্তি যে আপনি এই কারেকশন জেনে বুঝে করছেন আর এর জন্য কোন ঝামেলা হলে আপনি নিজেই দায়ী। জাস্ট ফরমালিটি আরকি।

আমি আসলে এফিডেভিড এর খরচ, সময় আর পাসপোর্ট বেকেন্ডে আটকে যাব বিধায় যে বেশি সময় লাগবে সেগুলো এড়াতে চেয়েছিলাম আরকি। সেজন্যই অনিচ্ছা সত্যেও উল্টাপথে গেলাম আরকি। 🙂

যাইহোক একটা জিনিস বলি নিজেরটা নিজেরই বুঝতে হবে। অন্য কেউ বিপদে ফেললে কিন্তু সেটার মাসুল আওনাকেই দিতে হবে। আমি জানতাম আমি Abdul পুরোটাতে বেকেন্ডে আটকাবে না কারব আইডিতে বাবার নাম বাংলায়। তাই সব কিছু হুবুহ MRP অনুযায়ী দিয়েছি। আমার সার্টিফিকেট এ কিন্তু A. Gafur Munsi দেয়া। কিন্তু সার্টিফিকেট দিয়ে আমার কোন প্লান নাই। তাই আমি কি করেছি আমি জানি, আমার স্বজ্ঞানেই করেছি। আপনিও নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্টেপ নিন।

ধন্যবাদ সবাইকে!

পাসপোর্ট সংক্রান্ত আমার অন্যান্য পোস্টঃ

Saiful Islam Sohel

আমি সাইফুল ইসলাম সোহেল। ভালো লাগে নিত্য-নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ও অন্যকে জানাতে। লিখতে অনেক ইচ্ছে হয় কিন্তু সময় বের করে লিখতে পারি না। আর কিছু লিখতে পারলে অনেক ভালো লাগে। ২০১৩ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স ইন্টারনেট রিসার্চার ও সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছি আপওয়ার্কে। বর্তমানে বি.এসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মন নেই, পড়তে হচ্ছে বলে পড়ছি। ক্যারিয়ারে নিজের মত করে কিছু করতে মন চায়। ভ্রমনের প্রতি আকর্ষন তীব্র আমার। তবুও দেখা যায় বছর শেষে দু এক জায়গার বেশি যাওয়া হয় না। :-( আরো পড়ুন https://nirbodh.com/about/

কমেন্ট করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.